সুমনের নতুন চাকরি হয়েছিল কলকাতা থেকে অনেক দূরের একটি ছোট শহরে। অফিসের কাছেই সে কম ভাড়ায় একটি পুরনো বাড়ির উপরের তলার ঘর ভাড়া নেয়। বাড়িওয়ালা প্রথম দিনই বলেছিলেন, "ঘরের পশ্চিম দিকের জানালাটা রাতের পরে খোলার দরকার নেই।" কথাটা শুনে সুমন হেসে উড়িয়ে দিয়েছিল। একটা জানালা নিয়ে এত সতর্কতার কী আছে?
প্রথম কয়েকদিন সব স্বাভাবিকই ছিল। কিন্তু এক রাতে হঠাৎ ঘুম ভেঙে যায় তার। ঘড়িতে তখন রাত ২টা ৪৭। ঘরের ভেতর অদ্ভুত ঠান্ডা অনুভব হচ্ছিল। বিছানায় উঠে বসতেই সে লক্ষ্য করল, পশ্চিম দিকের জানালাটা আস্তে আস্তে খুলে যাচ্ছে। অথচ সে নিশ্চিত ছিল যে ঘুমানোর আগে জানালাটি বন্ধ করেছিল।
প্রথমে ভাবল বাতাসের কারণে এমন হয়েছে। কিন্তু বাইরে তাকাতেই তার শরীর ঠান্ডা হয়ে গেল। জানালার ওপারে কোনো রাস্তা বা গাছপালা দেখা যাওয়ার কথা ছিল। অথচ সেখানে শুধু ঘন কালো অন্ধকার। এমন অন্ধকার, যেন আলো সেখানে পৌঁছাতেই পারে না। সুমন চোখ কুঁচকে আরও ভালো করে দেখার চেষ্টা করল। ঠিক তখনই অন্ধকারের মধ্যে দুটো সাদা বিন্দু দেখা গেল। ধীরে ধীরে সে বুঝতে পারল, ওগুলো চোখ।
চোখ দুটো স্থিরভাবে তার দিকেই তাকিয়ে আছে।
সুমনের বুকের ভেতর ধড়ফড় শুরু হয়ে গেল। সে দ্রুত জানালাটা বন্ধ করতে এগিয়ে গেল। কিন্তু জানালার কাছে পৌঁছাতেই বাইরে থেকে একটা ফিসফিসে কণ্ঠ ভেসে এল, "আজ নয়... কাল দেখা হবে..."
পরদিন সকালে সে বাড়িওয়ালাকে ঘটনাটা বলল। বৃদ্ধ লোকটি কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বললেন, "তুমি কি জানালার বাইরে তাকিয়েছিলে?" সুমন মাথা নাড়তেই লোকটার মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গেল। তিনি শুধু বললেন, "যারা তাকিয়েছিল, তারা কেউ বেশিদিন এখানে থাকেনি।"
সুমন এসব কুসংস্কার বলে উড়িয়ে দিলেও সেদিন রাতে আবার একই ঘটনা ঘটল। রাত ২টা ৪৭ মিনিটে তার ঘুম ভাঙল। জানালাটা আবার খুলছে। আর এবার সেই চোখ দুটো আরও কাছে। অনেক কাছে। এতটাই কাছে যে সে স্পষ্ট দেখতে পেল, চোখের নিচে কোনো মুখ নেই। কোনো নাক নেই। শুধু অন্ধকার।
এরপর থেকে প্রতিরাতেই সেই চোখগুলো একটু একটু করে কাছে আসতে লাগল। তৃতীয় রাতে তারা জানালার ঠিক ওপারে। চতুর্থ রাতে জানালার ভেতরে। আর পঞ্চম রাতে...
সুমনের আর ঘুম ভাঙেনি।
পরদিন সকালে দরজা ভেঙে প্রতিবেশীরা ঘরে ঢুকে দেখে, বিছানা খালি। ঘরে কোনো লড়াইয়ের চিহ্ন নেই। শুধু পশ্চিমের জানালাটা খোলা। আর জানালার কাঠে নখ দিয়ে আঁচড় কেটে লেখা—
"আমি ঢুকেছি।"
গল্পটি পড়ে আপনাদের কেমন লাগল, অবশ্যই কমেন্টে জানাবেন। 😊
আর পরেরবার কোন ধরনের গল্প শুনতে চান সেটাও লিখে জানান। আপনাদের মতামতই আমাদের পরবর্তী গল্প বাছাই করতে সাহায্য করবে।